নয় লাখ আটত্রিশ হাজার কোটি টাকার প্রশ্ন
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের যাচাই করা পাঠ
BDPolicyLab · Last updated 2026-06-11
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রতি বছর জুন মাসে এক পাতার একটি টেবিল ওঠে। নাম “এক নজরে বাজেট”। হাজার পৃষ্ঠার বাজেট দলিল, মন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তৃতা, টেলিভিশনের রাতভর টক শো, সবকিছুর নিচে আসল দলিল ওই এক পাতা: রাজস্ব কত আসবে, খরচ কত হবে, ঘাটতি কত, আর সেই ঘাটতি মেটাবে কে। টেবিলটির চারটি কলাম থাকে। নতুন বছরের মূল বাজেট, চলতি বছরের সংশোধিত বাজেট, চলতি বছরের মূল বাজেট, আর দুই বছর আগের প্রকৃত হিসাব। চার কলাম পাশাপাশি পড়লে সরকারের প্রতিশ্রুতি আর সামর্থ্যের দূরত্বটা মাপা যায়, কারণ মূল বাজেট হলো ইচ্ছা, সংশোধিত বাজেট হলো স্বীকারোক্তি, আর প্রকৃত হিসাব হলো সত্য।
এ বছরের পাতাটিতে সবচেয়ে বড় সংখ্যা ৳৯৩৮,০০০ কোটি টাকা, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট ব্যয়। সংখ্যাটি যত বড়, তার পেছনের প্রশ্নটি তত সরল: টাকাটা আসবে কোথা থেকে? বিডিপলিসিল্যাব এই বাজেটের প্রতিটি প্রধান সংখ্যা মূল নথি থেকে যাচাই করে ডেটা লেকে তুলেছে: এ বছরের বাজেট সংক্ষিপ্তসার, মন্ত্রণালয়ওয়ারি বার্ষিক আর্থিক বিবরণী, আর গত বছরের “এক নজরে” টেবিল, যাতে চার বছরের তুলনা চলে। সেই যাচাই করা সংখ্যাগুলো একসঙ্গে পড়লে পাঁচটি স্পষ্ট কথা বেরিয়ে আসে। কোনোটিই অনুমান নয়; প্রতিটির পেছনে পৃষ্ঠা-নম্বরসহ সূত্র আছে, আর প্রতিটি হিসাব যে-কেউ নিজে কষে মিলিয়ে নিতে পারেন।
রাজস্বের দেয়াল
বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্য ৳৬৯৫,০০০ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের লক্ষ্যের (৳৫৬৪,০০০ কোটি) চেয়ে ২৩.২ শতাংশ বেশি। কিন্তু লক্ষ্য আর আদায় এক জিনিস নয়। লক্ষ্য ঘোষণা করা যায় এক বিকেলে; আদায় করতে হয় বারো মাস ধরে, দোকানে দোকানে, বন্দরে বন্দরে, রিটার্নে রিটার্নে। সর্বশেষ যে অর্থবছরের প্রকৃত হিসাব হাতে আছে, সেই ২০২৩-২৪ সালে আদায় হয়েছিল ৳৪০৯,৮১২ কোটি টাকা। সেখান থেকে নতুন লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে রাজস্ব আদায় টানা তিন বছর প্রতি বছর ১৯.৩ শতাংশ হারে বাড়তে হবে। অথচ একই সময়ে দেশের নামমাত্র জিডিপি বাড়ছে বছরে ১০.৯ শতাংশ হারে। অর্থাৎ কর ব্যবস্থাকে অর্থনীতির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ গতিতে দৌড়াতে হবে। প্রতি বছর। কোনো বিরতি ছাড়া।
সাম্প্রতিক ইতিহাস উল্টো কথা বলে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটই সংশোধনের সময় ৪.৩ শতাংশ কমাতে হয়েছিল। আর যে করের ঘাড়ে নতুন লক্ষ্যের মূল ভার, সেই কর রাজস্বের লক্ষ্য এখন ৳৬২৯,০০০ কোটি টাকা, যেখানে ২০২৩-২৪ সালে আদায় হয়েছিল ৳৩৬৯,৭৭৬ কোটি, এবং এনবিআরের গোটা বছরের আদায় ছিল ৳৩৬১,৪৫২ কোটি টাকা।
এই দেয়ালটিই গোটা বাজেটের ভিত্তি। দেয়াল টিকলে বাকি সব দাঁড়িয়ে থাকে; ফাটল ধরলে চাপ গিয়ে পড়ে অন্য কোথাও। কোথায় পড়ে, তার উত্তর এই লেখার শেষ অংশে, আর উত্তরটি অনুমান নয়, গত বছরের নথিতে লেখা আছে।
সংখ্যাটিকে মাসের হিসাবে নামিয়ে আনলে দেয়ালের উচ্চতা আরও স্পষ্ট হয়। লক্ষ্য পূরণ করতে হলে প্রতি মাসে গড়ে ৳৫৭,৯১৭ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। ২০২৩-২৪ সালে মাসে গড়ে উঠেছিল ৳৩৪,১৫১ কোটি। অর্থাৎ জুলাই মাসের প্রথম দিন থেকেই আদায়ের গতি হতে হবে প্রকৃত ইতিহাসের প্রায় ১.৭ গুণ, এবং সেই গতি ধরে রাখতে হবে বছরের প্রতিটি মাসে। কর জাল বাড়ানো, অব্যাহতি ছাঁটা, ডিজিটাল রিটার্ন, সবই সঠিক পথ; কিন্তু কোনোটিই এক অর্থবছরে এতটা ফল দেয়ার নজির নেই।
ঘাটতির পাটিগণিত
বাজেটটিকে কঙ্কালে নামিয়ে আনা যাক। উন্নয়ন কর্মসূচির বাইরের খরচ, অর্থাৎ বেতন, ভর্তুকি, সুদ আর দৈনন্দিন প্রশাসন, সব মিলিয়ে ৳৬৩৮,০০০ কোটি টাকা। রাজস্ব লক্ষ্য ৳৬৯৫,০০০ কোটি সেই খরচ মিটিয়ে ৳৫৭,০০০ কোটি টাকা বাড়তি রাখে। ফলে ৳৩০০,০০০ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৳২৪৩,০০০ কোটিই চলবে ধার আর অনুদানে। ছাপানো ঘাটতি ৳২৩৬,৮৫০ কোটি টাকা, তবে সেটি অনুদানসহ হিসাব; শুধু ব্যয় থেকে রাজস্ব বাদ দিলে ফাঁকটা আরও ৳৬,১৫০ কোটি বড়, যা অনুদানে পূরণ হওয়ার কথা। কাঠামোটা পরিষ্কার: রাষ্ট্রের নিত্যদিনের সংসার চলে রাজস্বে, আর উন্নয়নের পুরো স্বপ্নটাই চলে ধারে। রাজস্বের দেয়াল টিকলে তবেই সংসার আর স্বপ্ন দুটোই বাঁচে।
কাগজের বড় রাষ্ট্র
মোট ব্যয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের ৳৭৯০,০০০ কোটি থেকে বেড়ে ৳৯৩৮,০০০ কোটি টাকা, বৃদ্ধি ১৮.৭ শতাংশ। একই সময়ে নামমাত্র জিডিপি বাড়ার কথা ৯.৪ শতাংশ। ফলে সরকারি ব্যয় জিডিপির ১২.৭ শতাংশ থেকে উঠে যাচ্ছে ১৩.৭ শতাংশে। এটি গতানুগতিক ধারাবাহিকতার বাজেট নয়; এটি সচেতনভাবে রাষ্ট্রের আকার বাড়ানোর বাজেট। সিদ্ধান্তটি ভালো না মন্দ, সে বিতর্ক চলতেই পারে; অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়ানোর যুক্তি আছে, ঋণের বোঝা বাড়ানোর বিপদও আছে। কিন্তু দলিলটি যে প্রশ্নের উত্তর দেয় না তা হলো: রাজস্বের দেয়াল যদি না টেকে, এই সম্প্রসারণের কী হবে?
উচ্চাভিলাষের ভারটা বইছে উন্নয়ন কর্মসূচি। চার বছরের ছবিটা পাশাপাশি রাখুন: ২০২৩-২৪ সালে এডিপিতে প্রকৃত খরচ হয়েছিল ৳১৯৫,২৩৪ কোটি টাকা; ২০২৪-২৫ সালে সংশোধিত বরাদ্দ ৳২১৬,০০০ কোটি; ২০২৫-২৬ সালের বাজেটে ৳২৩০,০০০ কোটি; আর এবারের লক্ষ্য ৳৩০০,০০০ কোটি, গত বছরের বাজেটের চেয়ে ৩০.৪ শতাংশ বেশি এবং এই চার বছরে বাস্তবে যা কখনো খরচ হয়েছে তার দেড় গুণেরও বেশি। কাগজ সবই সয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের যন্ত্রপাতি অতটা সয় না।
প্রতি একশ টাকায় বাইশ টাকা
নতুন কোনো স্কুল, হাসপাতাল বা সেতুর আগে বাজেটের একটি খরচ আগে থেকেই ঠিক হয়ে আছে: সুদ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সুদ বাবদ ধরা ছিল ৳১২২,০০০ কোটি টাকা, ওই বছরের রাজস্ব লক্ষ্যের ২১.৬ শতাংশ; ২০২৩-২৪ সালের প্রকৃত হিসাবেও সুদ গুনতে হয়েছে ৳১১৪,৫৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রতি একশ টাকা আয় করলে তার প্রায় বাইশ টাকা আগেই খরচ হয়ে যায়, কোনো নাগরিক সেবা শুরুর আগেই। সুদ কোনো সংশোধিত বাজেটে কমে না, কোনো কৃচ্ছ্রসাধনে মাফ হয় না; চুক্তিমতো দিতেই হয়। এবারের ঘাটতির প্রতিটি ধার-করা টাকা ভবিষ্যতের সেই দাবিকে আরও ভারী করবে। এটাই সম্প্রসারণের নীরব দাম।
অগ্রাধিকারের আসল হিসাব
যে বাজেট বাড়ছে, সেখানে প্রায় সব মন্ত্রণালয়ই আগের চেয়ে বেশি টাকা পায়, কাজেই টাকার অঙ্ক দিয়ে অগ্রাধিকার মাপা বিভ্রান্তিকর। মাপতে হয় বাজেটের ভাগ দিয়ে: কার পাল্লা ভারী হলো, কার হালকা। সেই মাপে এবারের বিজয়ীরা স্পষ্ট:
- স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ: ভাগ বেড়েছে ১.৬৪ শতাংশ-পয়েন্ট, এখন মোট বরাদ্দের ৩.২৬ শতাংশ
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়: ভাগ বেড়েছে ১.০২ শতাংশ-পয়েন্ট, এখন মোট বরাদ্দের ২.০১ শতাংশ
- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়: ভাগ বেড়েছে ০.৭৫ শতাংশ-পয়েন্ট, এখন মোট বরাদ্দের ৩.০৮ শতাংশ
- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ: ভাগ বেড়েছে ০.৭ শতাংশ-পয়েন্ট, এখন মোট বরাদ্দের ৩.৭৮ শতাংশ
- পরিকল্পনা বিভাগ: ভাগ বেড়েছে ০.৬৭ শতাংশ-পয়েন্ট, এখন মোট বরাদ্দের ২.৩৯ শতাংশ
আর যাদের ভাগ কমেছে:
- অর্থ বিভাগ: -৪.২ শতাংশ-পয়েন্ট, এখন ৫৪.৮১ শতাংশ
- স্থানীয় সরকার বিভাগ: -০.৬ শতাংশ-পয়েন্ট, এখন ২.৬৬ শতাংশ
- নিরাপত্তা সেবা বিভাগ: -০.২৯ শতাংশ-পয়েন্ট, এখন ০.০ শতাংশ
তালিকাটি পড়ার একটি সতর্কতা আছে। অর্থ বিভাগের ভাগ ৫৪.৮১ শতাংশ দেখে মনে হতে পারে গোটা বাজেট বুঝি এক দপ্তরের হাতে। আসলে মন্ত্রণালয়ওয়ারি মোট-ব্যয়ের হিসাবটি গ্রস, অর্থাৎ সুদ পরিশোধ, পেনশন, ভর্তুকি আর সরকারের ভেতরের স্থানান্তরের বড় অংশ হিসাবরক্ষক হিসেবে অর্থ বিভাগের খাতায় বসে। সেই খাতার ভাগ কমা মানে প্রকৃত কৃচ্ছ্রসাধন নয়; হিসাবের সেতুটি কীভাবে কাজ করে তা পদ্ধতি পাতায় নথিভুক্ত আছে। ভাগের এই সরণগুলো তাই সবচেয়ে অর্থবহ সেবা-মন্ত্রণালয়গুলোর বেলায়, যেখানে টাকার পেছনে সরাসরি স্কুল, হাসপাতাল আর ভাতা দাঁড়িয়ে থাকে।
স্বাস্থ্য আর শিক্ষার ভাগ বাড়াটা সত্যিকারের সুখবর, তবে প্রেক্ষাপটটা মনে রাখা দরকার। ভাগ বাড়ার পরও শিক্ষায় ব্যয় জিডিপির ১.৭৯ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ৪.০ শতাংশ। স্বাস্থ্যে ০.৯২ শতাংশ, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ন্যূনতম ধাপ ৫.০ শতাংশ। সামাজিক সুরক্ষায় ০.৮৪ শতাংশ, যেখানে মৌলিক সুরক্ষাবলয়ের খরচ ধরা হয় জিডিপির ২.০ শতাংশ; আর কৃষি পাচ্ছে বাজেটের ৬.৮৩ শতাংশ, যেখানে মাপুতো ঘোষণার অঙ্গীকার সরকারি ব্যয়ের ১০.০ শতাংশ। দিক ঠিক আছে, গতি নয়। এই গতিতে ফাঁক বন্ধ হতে লাগবে দশক, কোনো একটি বাজেট নয়।
সংশোধনের মৌসুম
বাংলাদেশের বাজেটের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নিয়মটি জুন মাসে লেখা হয় না, লেখা হয় ফেব্রুয়ারি-মার্চে: সংশোধিত বাজেট মূল বাজেটের চেয়ে ছোট হয়। সর্বশেষ সম্পূর্ণ চক্রে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে, সংশোধনের সময় ব্যয় কমেছে ৬.৬ শতাংশ, রাজস্ব ৪.৩ শতাংশ। আর কাটছাঁটের কোপটা সমান পড়েনি: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি একাই কমেছে ১৮.৫ শতাংশ। সুদ কমেনি। বেতন কমেনি। কমেছে উন্নয়ন, অর্থাৎ সেই খরচটাই, যার নামে বাজেটের উচ্চাভিলাষ বিক্রি হয়।
তাই ৳৯৩৮,০০০ কোটির এই বাজেটকে পূর্বাভাস নয়, সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে পড়াই সঙ্গত। রাজস্বের দেয়ালে ফাটল ধরলে ইতিহাস বলে কোপটা কোথায় পড়বে: স্কুলভবনে, বাঁধে, হাসপাতালের সম্প্রসারণে, অর্থাৎ ঠিক সেই খাতগুলোতে, যেগুলোর ভাগ এ বছর এত কষ্টে বেড়েছে।
নাগরিক হিসেবে নজর রাখার জায়গা তাই তিনটি, এবং তিনটিই মাপা যায়। প্রথমত, এনবিআরের মাসিক আদায়ের সংখ্যা: উপরের হিসাবের গতির সঙ্গে মিলছে কি না। দ্বিতীয়ত, আইএমইডির প্রান্তিক প্রতিবেদন: এডিপির টাকাটা আদৌ খরচ হচ্ছে কি না, নাকি বছরের শেষ মাসে তাড়াহুড়ো করে কাগজে খরচ দেখানো হচ্ছে। তৃতীয়ত, সংশোধিত বাজেটের আকার। তিনটি সংখ্যাই প্রকাশ্য নথিতে আসে; লুকানোর উপায় নেই।
প্রতিশ্রুতির খাতা
বাজেট বক্তৃতায় নাগরিকের জন্য সরাসরি ৫৩টি প্রতিশ্রুতি আছে। সবচেয়ে বড়টি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণ: ৪১ লাখ নারীর হাতে কার্ড, মায়ের বা পরিবারের নারী প্রধানের নামে, মাসে ২,৫০০ টাকা সরাসরি মোবাইল বা ব্যাংক হিসাবে, বরাদ্দ ১৪,৫০০ কোটি টাকা (বক্তৃতা, পৃষ্ঠা ৭০-৭১)। খাতার অন্য প্রান্তে সৌরবিদ্যুতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য কর। মাঝখানে খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষাবৃত্তি, প্রবাসী কর্মী আর কর ছাড়ের আরও ৫১টি অঙ্গীকার।
খাতার ছোট প্রতিশ্রুতিগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ সেগুলোই সবচেয়ে সহজে যাচাই করা যায়। বয়স্ক ভাতার উপকারভোগী এক লাখ বেড়ে ৬২ লাখ হওয়ার কথা, মাসিক ভাতা ৫০ টাকা বেড়ে ৭০০ টাকা (বক্তৃতা, পৃষ্ঠা ৭১)। এমন প্রতিশ্রুতির সৌন্দর্য হলো এর পরীক্ষা কোনো অর্থনীতিবিদ লাগে না: পাড়ার যে মানুষটি ভাতা পান, তিনি জুলাইয়ের পর নিজের মোবাইলের খুদে বার্তাতেই উত্তরটা দেখে নিতে পারবেন।
ঘোষণা সহজ, বাস্তবায়ন কঠিন, আর দুটোর মাঝের দূরত্ব মাপাই নাগরিকের কাজ। বিডিপলিসিল্যাব তাই প্রতিটি প্রতিশ্রুতির জন্য একটি খাতা খুলেছে: প্রতিটির পাশে বক্তৃতার পৃষ্ঠা-নম্বর, আর অর্থবছর জুড়ে বাস্তবায়নের প্রমাণ মিললে অবস্থা হালনাগাদ হবে, ঘোষিত থেকে চলমান, চলমান থেকে বাস্তবায়িত, কিংবা প্রয়োজনে বাতিল।
প্রথম বড় পরীক্ষার তারিখ এখনই বলা যায়: ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৭, যখন সংশোধিত বাজেট আসবে। সেদিন “এক নজরে বাজেট” টেবিলটি আবার ছাপা হবে, চারটি কলামে আবার মুখোমুখি বসবে ইচ্ছা, স্বীকারোক্তি আর সত্য। তখনই বোঝা যাবে জুনের প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটা ছিল পরিকল্পনা, আর কতটা শুধুই ঘোষণা।
ইংরেজি বিশ্লেষণ: Budget FY2026-27: The Analysis · প্রতিশ্রুতি ট্র্যাকার · পদ্ধতি
Sources
অর্থ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার: বাজেট সংক্ষিপ্তসার ২০২৬-২৭; বার্ষিক আর্থিক বিবরণী ২০২৬-২৭; এক নজরে বাজেট ২০২৫-২৬; বাজেট বক্তৃতা ২০২৬-২৭। প্রতিটি সংখ্যা মূল নথি থেকে যাচাইকৃত; পদ্ধতি: bdpolicylab.com/budget/2026-27/methodology
Generated on 2026-06-11.