সারসংক্ষেপ: হরমুজ প্রণালী এখন বন্ধ, এবং বাংলাদেশের আসল ঝুঁকি তেল নয়, ইউরিয়ার ক্যালেন্ডার-তালা ও উপসাগরের রেমিটেন্স। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ৪ মার্চ ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করে; ৫ মার্চ থেকে জাহাজের পিঅ্যান্ডআই বীমা বাতিল, ট্যাংকার চলাচল কার্যত শূন্য। বিসিআইসি নির্ধারিত ইউরিয়া দরপত্র বাতিল করেছে, আর সরকার মিশর-ইন্দোনেশিয়া-রাশিয়া থেকে বিকল্প ইউরিয়া খুঁজছে। মূল যুক্তি: একটি ৮ লাইনের প্রস্তুতি প্যাকেজের এককালীন খরচ ৫,৩৩০ থেকে ৫,৪৫০ কোটি টাকা, কিন্তু একটি মাঝারি (পরিস্থিতি খ) হরমুজ-শকের একবারের খরচ ৮০,০০০ থেকে ১,৩০,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রস্তুতির রিটার্ন ১৫ থেকে ২৫ গুণ, এবং সিদ্ধান্তের জানালা মে ২০২৬।
কিশোরগঞ্জের হাওরে ফেব্রুয়ারির এক ভোর। বোরো ধানের চারার গোড়ায় ইউরিয়ার সাদা দানা ছড়াচ্ছেন কৃষক রহমত আলী। এটাই তাঁর দ্বিতীয় টপড্রেসিং, ফসলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি-জানালা। আগামী এপ্রিল-মে মাসে এই ক্ষেতের ধান কাটা হবে। এই বস্তা ইউরিয়া না দিতে পারলে ফলন এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি পড়বে, যেটা তিনি জানেন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও জানে।
বস্তায় কোম্পানির নাম পড়লে দেখবেন, "দাম্মাম, সৌদি আরব।" সেই ইউরিয়া যে জাহাজে চট্টগ্রাম এসেছে, সে জাহাজ এসেছে সৌদি আরবের পূর্ব উপকূল থেকে, ইরান-ওমানের মাঝখানের একটি সরু প্রণালী দিয়ে, যার নাম হরমুজ।
হরমুজ প্রণালী যখন বাংলাদেশের আলোচনায় আসে, আসে তেলের গল্প হিসেবে। পেট্রল পাম্পের লাইন, ডিজেলের দাম, পরিবহন খরচ। এই গল্পটি ভুল না, কিন্তু পুরো বিলের সবচেয়ে ছোট কলামমাত্র। হরমুজে বাংলাদেশের পুরো হিসাব অন্তত সাতটি লাইনে চলে: প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের বেতন উপসাগরের ছয় দেশে, রহমত আলীর হাওরের ইউরিয়ার বস্তা, মহেশখালীর এলএনজি কার্গো, বিপিসি ডিপোর ডিজেল, চট্টগ্রাম থেকে ছাড়া কন্টেইনার জাহাজের বাংকার ফুয়েল, কারওয়ান বাজারের পাম তেলের ড্রাম, আর জেদ্দাগামী বিমানের জেট ফুয়েল।
প্রতিটি লাইন প্রণালীর দাম গণনা করে আলাদাভাবে। মিলিয়ে দেখলে মোট হরমুজ-নির্ভরতা শুধু-তেলের কথোপকথনের অনেক উপরে।
ক্যালেন্ডার-তালা
এই লেখাটি ৪ মে ২০২৬ তারিখে, এবং এই তারিখটি ইচ্ছাকৃত। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান ৪ মার্চ ২০২৬ হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে, এবং মে মাস পর্যন্ত বাণিজ্যিক ট্যাংকার চলাচল কার্যত শূন্য (হাউস অব কমন্স লাইব্রেরি; আল জাজিরা, ২০২৬)। হাওরে আর উত্তরাঞ্চলের ধান-বেল্টে এখন যে বোরো ফসল কাটা হচ্ছে, তার দ্বিতীয় ইউরিয়া টপড্রেসিং পড়েছিল ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৬-এ, যে জানালা এখন বন্ধ। তাই এ বছরের ক্যালেন্ডার-তালা ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তারেক রহমান সরকার (বিএনপি, শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এখন জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উৎস থেকে ইউরিয়া সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
এই লেখার ঝুঁকি-হিসাব একটি পরিস্থিতি-বিশ্লেষণ, ভবিষ্যদ্বাণী নয়। হরমুজ বন্ধ একটি বাস্তব ঘটনা, কিন্তু এর গভীরতা ও স্থায়িত্ব এখনো অনিশ্চিত। তাই নিচে তিনটি তীব্রতা-স্তরে আলাদা করে দাম দেওয়া হয়েছে। মূল মনোযোগ পরের বোরো চক্র, যার গুরুত্বপূর্ণ ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৭ জানালা সামনে, এবং শেষে প্রস্তাবিত প্যাকেজের মাপ এই ১২ মাসের প্রস্তুতির সঙ্গে মিলিয়ে।
ভুল করার দাম পরিশোধ হবে বোরো ২০২৭-এ, বোরো ২০২৬-এ না। কিন্তু সেই দামের ভিত্তি স্থাপন হচ্ছে এখন, ২০২৬ সালের জুন-জুলাই-আগস্টে, যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের এলসি ক্যালেন্ডার সাজানো হবে, আর বিএডিসি-বিসিআইসি ইউরিয়া সংগ্রহের চুক্তি লেখা হবে। প্রস্তুতির জানালা ছোট। মে ২০২৬, এই মাসের পরিকল্পনাই ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর ফসলের নির্ণায়ক।
কী যায় হরমুজ দিয়ে
বিশ্বের সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্যের একটি বড় অংশ আর সমুদ্রবাহিত এলএনজির প্রায় বিশ শতাংশ যায় হরমুজ দিয়ে, এলএনজির প্রায় সবটুকুই কাতারের (মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ২০২৫)। এই প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র একুশ নটিক্যাল মাইল।
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন (লোহিত সাগরে নামে, কার্যকর ক্ষমতা ৫০ থেকে ৭০ লাখ ব্যারেল/দিন NGL সহ) আর আমিরাতের হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইন (প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল/দিন), এই দুটো হরমুজ এড়িয়ে চলে। কিন্তু একসঙ্গে এই দুই পাইপলাইনের ক্ষমতা হরমুজের স্বাভাবিক প্রবাহের এক-তৃতীয়াংশের মতো। এলএনজির জন্য কোনো পাইপলাইন বিকল্প নেই, একদমই।
বাংলাদেশের জন্য হরমুজ-নির্ভরতা ছয়টি পণ্য-লাইন আর একটি শ্রম-লাইনে। ছয় পণ্য: অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্য, এলএনজি, ইউরিয়া, ডিএপি ও ফসফেট, ভোজ্যতেল (পরোক্ষভাবে, বিশ্ব-মূল্যের সংক্রমণে), এবং জেট ফুয়েল। শ্রম-লাইন: জিসিসি ছয় দেশে কর্মরত প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ বাংলাদেশি, যাঁদের বেতন আসে সেই দেশের তেল-গ্যাস রাজস্ব থেকে, যে রাজস্ব আবার হরমুজ-রপ্তানির ওপর নির্ভর।
সাতটি চ্যানেলের পুরো বিল
এক, রেমিটেন্স। এটি ডলারের হিসাবে সবচেয়ে বড় চ্যানেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রেমিটেন্স ৩০.৩ বিলিয়ন ডলার, যা প্রথমবারের মতো ৩০ বিলিয়নের ঘর পেরিয়েছে এবং আগের বছরের চেয়ে ২৬.৮ শতাংশ বেশি (বাংলাদেশ ব্যাংক, দ্য ডেইলি স্টার, ২০২৫)। এর প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ আসে জিসিসি থেকে।
হরমুজ ঘটনা যদি উপসাগরীয় তেল-গ্যাস রাজস্বে আঘাত করে, ছয় থেকে বারো মাসের ব্যবধানে সৌদি, আমিরাত, কাতার, ওমানের নির্মাণ ও সেবা খাতে নিয়োগ কমে। ২০১৪-১৬ সালের তেল-পতনের সময় উপসাগরীয় দেশে বাংলাদেশি অভিবাসনের হার তীব্রভাবে কমেছিল, এটাই সাম্প্রতিক নজির। মোট রেমিটেন্সের ১০ শতাংশ কমলে বছরে প্রায় ৩.০ বিলিয়ন ডলারের আয় বন্ধ, এবং দেশে ১০ থেকে ১২ লাখ পরিবারের বাজেটে সরাসরি ক্ষতি।
দুই, ইউরিয়া আর বোরোর ক্যালেন্ডার-তালা। দেশের বার্ষিক ইউরিয়া চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ টন, কিন্তু দেশীয় উৎপাদন এখন প্রায় ১০ লাখ টন/বছর; বাকি ১৩ থেকে ২০ লাখ টন আমদানি, যার বড় অংশ সৌদি, কাতার, আমিরাত থেকে (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২০২৬)। ঘোড়াশাল-পলাশ পূর্ণ ক্ষমতায় চললে বছরে আরও ৯.২৪ লাখ টন যোগ হওয়ার কথা, কিন্তু গ্যাস-রেশনিংয়ে মার্চ ২০২৬-এ পাঁচটি ইউরিয়া কারখানা বন্ধ ছিল (বাংলামিরর, ২০২৬), তাই দেশীয় উৎপাদন এখনো লক্ষ্যের নিচে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুপারিশে উচ্চফলনশীল বোরোর মোট ইউরিয়া হেক্টরপ্রতি ২৬০ থেকে ৩০০ কেজি, দ্বিতীয় টপড্রেসিংয়ে ৯০ থেকে ১১০ কেজি। এটা স্কিপ করলে ফলন ১৮ থেকে ২৫ শতাংশ পড়ে।
হরমুজ ঘটনা যদি জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির শেষের মধ্যে পড়ে, বিকল্প উৎস থেকে ইউরিয়া পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৫০ দিন, প্লাস বাংলাদেশ ব্যাংকের এলসি ব্যাকলগে আরও দুই-তিন সপ্তাহ। দ্বিতীয় টপড্রেসিংয়ের জন্য নতুন উৎস থেকে ইউরিয়া সময়মতো পৌঁছানো শুধু কাগজে সম্ভব। বাস্তব ক্যালেন্ডারে রহমত আলীর জন্য সেই বস্তা থাকবে না।
তিন, এলএনজি আর বিদ্যুৎ গ্রিড। কাতারের সঙ্গে চুক্তিগুলো মিলে এখন প্রায় ৪৩ লাখ টন/বছর এলএনজি আসে রাস লাফান (হরমুজের ভেতর) থেকে; ওমানের প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টন/বছর কালহাত (হরমুজের বাইরে) থেকে (পেট্রোবাংলা চুক্তি; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)। ৪ মার্চ ২০২৬ কাতারএনার্জি রাস লাফানে ফোর্স মাজিউর ঘোষণা করেছে, যাতে কাতারের রপ্তানি ক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য বন্ধ (কাতারএনার্জি, কেপলার, ২০২৬)। স্পট এলএনজির দাম তীব্রভাবে বেড়েছে। এলএনজি-চালিত গ্যাস বিদ্যুৎ ক্ষমতা প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট। লোডশেডিং বাড়লে শুকনো মৌসুমে বোরোর সেচ পাম্পের গ্রিড বিদ্যুৎ কমে। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে দীর্ঘ লোডশেডিং ছিল এর সাম্প্রতিক উদাহরণ।
চার, অপরিশোধিত তেল, ডিজেল আর জাহাজ ভাড়া। বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৭৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম আমদানি করে, যার ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত (ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্ষমতা যতটুকু), বাকিটা পরিশোধিত পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছে ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, ৬৫ শতাংশ এলএনজি, ৫১ শতাংশ এলপিজি (দ্য ডেইলি স্টার, ২০২৬)। বিপিসির ডিজেল ফরোয়ার্ড কভার ২৫ থেকে ৩০ দিনের। এর পাশাপাশি, হরমুজ ঘটনায় উপসাগরীয় ট্রানজিটে যুদ্ধ-ঝুঁকি বীমা প্রিমিয়াম বাড়ে এবং বিশ্ব কন্টেইনার শিপিং-এর বাংকার ফুয়েল ব্রেন্টের সাথে এক মাসের ব্যবধানে ওঠে। চট্টগ্রাম-মংলা থেকে রপ্তানির জাহাজ ভাড়া পরিস্থিতি খ-এ ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ে, প্লাস ১০ থেকে ২০ শতাংশ বীমা প্রিমিয়াম।
পাঁচ, পোশাক রপ্তানির প্রতিযোগিতা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ছিল ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার, মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ৮৪ শতাংশ (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিএসএস, ২০২৫)। এই খাত তিন স্তরে এই ঘটনার দাম দেয়: কারখানার ক্যাপটিভ গ্যাস বিদ্যুৎ, আমদানি কাঁচামালের জাহাজ ভাড়া, আর ক্রেতাদের দাম বাড়ানোর সুযোগের অভাব, কারণ ভিয়েতনাম-ভারতও একই শকে। কারখানার গেট-মার্জিন ৩ থেকে ৬ শতাংশ; ৫ থেকে ১০ শতাংশ ইনপুট-শক টেকসইভাবে শোষণ করা যায় না।
ছয়, ভোজ্যতেল আর বৃহত্তর খাদ্যঝুড়ি। বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ আমদানি (ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়া পাম, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সয়াবিন)। কোনো লাইন হরমুজ দিয়ে যায় না, কিন্তু বিশ্ব-মূল্য সংক্রমণে দাম ওঠে। ২০২২ সালে ক্রুড পাম তেল ১,১৫০ ডলার/টন থেকে ১,৮০০ ডলার/টন-এ উঠেছিল। বড় ভোজ্যতেল মূল্যবৃদ্ধি হলে বাংলাদেশকে বছরে অতিরিক্ত ১.৫ থেকে ১.৮ বিলিয়ন ডলার দিতে হয়, খুচরায় কেজিতে ২০ থেকে ৩৫ টাকা যোগ হয়।
সাত, এভিয়েশন, হজ আর বিমান। ২০২৬ সালের হজ মৌসুম মে-র শেষ থেকে; বাংলাদেশের হজযাত্রী কোটা প্রায় ১,২৭,০০০ থেকে ১,৩৮,০০০। হরমুজ ঘটনায় জেট ফুয়েলের বড় মূল্যবৃদ্ধি বিমানের হজ অপারেশনের খরচে ৬০০ থেকে ১,২০০ কোটি টাকা যোগ করতে পারে। যাত্রী ভাড়া বাড়ালে বিমানের রাজস্ব রক্ষা হয়, কিন্তু গরিব হজযাত্রীর জন্য বুকিং অসম্ভব হয়। বাড়ালে রাজনৈতিক ব্যয়, না বাড়ালে কোষাগারে।
তিনটা পরিস্থিতি, টাকার অঙ্কে
হরমুজ-ঘটনা একটি বাইনারি না। তীব্রতার পরিসর আছে। তিনটি সম্ভাবনাকে আলাদাভাবে দাম দিতে হবে। নিচের শতাংশগুলো স্থির ভিত্তির বিপরীতে: ৫ মে ২০২৬-এ বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৫.৩ বিলিয়ন ডলার (আইএমএফ-পদ্ধতিতে ৩০.৬ বিলিয়ন; বাংলাদেশ ব্যাংক, দ্য ডেইলি স্টার, ২০২৬)। শতাংশগুলো এই গ্রস রিজার্ভের ওপর হিসাব করা হয়েছে।
পরিস্থিতি ক, এক সপ্তাহ। ইরান মাইন বসায়, ক্লিয়ার হয়, সাত-দশ দিনে চলাচল ফিরে আসে। তেলের দাম ১৩০ ডলারে স্পাইক, ৩০ দিনে স্বাভাবিক। বাংলাদেশের জন্য বিল মূলত যুদ্ধ-ঝুঁকি বীমা প্রিমিয়ামে, পুরো বছরে ২৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা। রেমিটেন্স অপ্রভাবিত, ভোজ্যতেল-চাল অপ্রভাবিত। বোরোর ক্ষতি অল্প।
পরিস্থিতি খ, ৩০ দিন আংশিক বন্ধ। তেল ১৩০ থেকে ১৬০ ডলার, ইউরিয়া ৭০০ থেকে ৯০০ ডলার/টন, এলএনজি ৪০ থেকে ৬০ ডলার/MMBtu, পাম তেল ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের সাত চ্যানেল মিলিয়ে অতিরিক্ত ফরেক্স প্রভাব বছরে প্রায় ৫ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার, যা গ্রস রিজার্ভের ১৪ থেকে ২৫ শতাংশ। যদি এই ঘটনা ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৭-এ পড়ে, বোরোর ফলন কমে প্রায় ১০ থেকে ১৬ লাখ টন (চাল), মূল্য ৫,৬০০ থেকে ৯,০০০ কোটি টাকা। চাল আর ভোজ্যতেলের খুচরা দাম বাড়ে ছয় থেকে নয় মাসের ব্যবধানে। রেমিটেন্সের ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি ছয় থেকে বারো মাসের ব্যবধানে। এই চ্যানেল-ফরেক্স প্রভাব ও দেশীয় ফসল-ক্ষতি মিলিয়ে একটি খ-শকের মোট প্রত্যক্ষ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১,৩০,০০০ কোটি টাকা।
পরিস্থিতি গ, ৯০ দিন পূর্ণ বন্ধ। এটা সবচেয়ে গভীর ছিদ্র। তেল ১৮০ থেকে ২২০ ডলার। সাত চ্যানেলের মোট অতিরিক্ত ফরেক্স প্রভাব প্রায় ১৫ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার (৯০ দিন আমদানি প্লাস ১২ মাস রেমিটেন্স লেগ), যা গ্রস রিজার্ভের প্রায় ৪২ থেকে ৭১ শতাংশ। এই অনুমান স্ট্যাকড: ৯০ দিনের আমদানি-শক ও ১২ মাসের রেমিটেন্স-লেগ একসঙ্গে ধরা হয়েছে, এবং এটি ঊর্ধ্বসীমা। বাস্তবিক ফলাফল হবে রেশনিং, ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা অবমূল্যায়ন, জরুরি আইএমএফ সহায়তা, আর বোরোতে ২০ থেকে ৩০ লাখ টন চালের ঘাটতি। চালের খুচরা দাম ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়বে, যা সহজে ফিরবে না।
২০২২ থেকে যা শেখা
২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন ঘটনা হরমুজ-জনিত ছিল না, কিন্তু সংক্রমণের পথ একই, আমদানি সার, আমদানি জ্বালানি, আমদানি ভোজ্যতেল।
ঢাকার মোটা চালের খুচরা দাম শেষ ২০২১-এ ছিল কেজিপ্রতি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, অক্টোবর ২০২২-এ ৫২ থেকে ৫৪ টাকার ঘরে, প্রায় ১২ থেকে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি; মাঝারি ও সরু চাল আরও বেশি, কেজিপ্রতি ৬০ টাকা পার করে। বোতলজাত সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি ১৬৫ টাকা থেকে ২২০ টাকার বেশি, প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
এই দাম পরের দুই বছরেও পুরোনো জায়গায় ফেরেনি। চাল-তেলের সংক্রমণ এক দিকে দ্রুত, অন্য দিকে আঠালো। ঢাকা ও বরিশালের নিম্ন-আয়ের পরিবারে ২০২২ সালে যে দ্রব্যমূল্য চাপ এসেছিল, ২০২৪ সালে সেটা কমেছে কিন্তু বেসলাইন উপরে। হরমুজ-পরিস্থিতি খ পড়লে নতুন বেসলাইন আরও উপরে উঠবে।
আট লাইনের প্যাকেজ
ছয় মাসের একটা প্রস্তুতি প্যাকেজের চেহারা হবে আট লাইনের। এই প্যাকেজের কোনো অংশই নতুন আবিষ্কার না; প্রতিটি অন্য দেশের সংকট-প্রস্তুতিতে প্রমাণিত। প্রতিটি লাইনের সঙ্গে দায়িত্বশীল সংস্থা, প্রত্যাশিত ফল, ও যাচাইযোগ্য সাফল্য-সংকেত যুক্ত।
প্রথম, ৬০ দিনের অতিরিক্ত ইউরিয়া মজুদ অ-হরমুজ উৎস থেকে কেনা (এককালীন প্রায় ২,১০০ কোটি টাকা)। দায়িত্ব: বিএডিসি ও বিসিআইসি। মিশর, আলজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া সম্ভাব্য বিকল্প উৎস। এলসি অগ্রিম খোলা, যাতে ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা করতে দশ সপ্তাহের নোটিশ দরকার না হয়। সাফল্য-সংকেত: ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৬০ দিনের সমপরিমাণ ইউরিয়া অ-উপসাগরীয় উৎস থেকে গুদামে।
দ্বিতীয়, ৩০ দিনের ডিএপি-পটাশ বাফার (এককালীন ৫৫০ থেকে ৬৭০ কোটি টাকা)। দায়িত্ব: বিএডিসি। বোরোর জন্য ইউরিয়াই প্রধান, কিন্তু বেসাল ডোজে ডিএপি লাগে; সেটাও সংরক্ষিত থাকা দরকার। সাফল্য-সংকেত: বোরো মৌসুম শুরুর আগে ৩০ দিনের বাফার নিশ্চিত।
তৃতীয়, দ্বিতীয় দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি চুক্তি অ-হরমুজ সরবরাহকারীর সঙ্গে (নীতি-পদক্ষেপ, এককালীন মূলধন-ব্যয় নেই)। দায়িত্ব: পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ। ওমান (কালহাত), অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, এদের যেকোনোটি। লক্ষ্য কাতার-নির্ভরতা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো। সাফল্য-সংকেত: এক বছরের মধ্যে অ-হরমুজ এলএনজির অংশ চুক্তিবদ্ধ ভল্যিউমের ৩০ শতাংশ।
চতুর্থ, আইএমএফ র্যাপিড ফাইন্যান্সিং ইনস্ট্রুমেন্টের সঙ্গে ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের প্রস্তুতিমূলক চুক্তি (নীতি-পদক্ষেপ, এককালীন মূলধন-ব্যয় নেই)। দায়িত্ব: অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি জরুরি ফরেক্স-সাপোর্টের পূর্ব-অনুমোদিত লাইন। সংকটের ভেতরে আলোচনার বদলে আগে স্বাক্ষর। সাফল্য-সংকেত: স্ট্যান্ডবাই লাইন সক্রিয় ও পূর্ব-অনুমোদিত।
পঞ্চম, ঘোড়াশাল-পলাশসহ বিসিআইসির ইউরিয়া কারখানাগুলোতে শুকনো মৌসুমে গ্যাস বরাদ্দের অগ্রাধিকার (এটি ব্যয় নয়, বরং বার্ষিক প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার সাশ্রয়)। দায়িত্ব: জ্বালানি বিভাগ ও বিসিআইসি। এতে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানি-নির্ভরতা কমবে। সাফল্য-সংকেত: শুকনো মৌসুমে ইউরিয়া কারখানার গ্যাস-আপটাইম ৯০ শতাংশের উপরে।
ষষ্ঠ, টিসিবির চাল ও ভোজ্যতেলের ফরোয়ার্ড স্টক ৫০ শতাংশ বাড়ানো (এককালীন ২,৬৮০ কোটি টাকা, কারণ এখন ভোজ্যতেলও পরিধির মধ্যে)। দায়িত্ব: বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবি। নিম্ন-আয় পরিবারের কাছে ভর্তুকি-মূল্যে দ্রুত পৌঁছানোর কাঠামো। সাফল্য-সংকেত: টিসিবির ফরোয়ার্ড স্টক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি অর্জিত।
সপ্তম, উপসাগরীয় চার দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শ্রম-সুরক্ষা সমঝোতা (নীতি-পদক্ষেপ, এককালীন মূলধন-ব্যয় নেই)। দায়িত্ব: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গণ-প্রত্যাবাসন না, চুক্তি বাতিল না; বরং শকের সময় বিদ্যমান শ্রমিকদের চাকরি অগ্রাধিকার ও বেতন-হস্তান্তর সুরক্ষার সাধারণ কাঠামো, যাতে রেমিটেন্সের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়ানো যায়। সাফল্য-সংকেত: চারটি জিসিসি দেশের সঙ্গে কাঠামো স্বাক্ষরিত।
অষ্টম, বাংলাদেশ ব্যাংকের এলসি অগ্রাধিকার তালিকা সক্রিয়করণ (নীতি-পদক্ষেপ, এককালীন মূলধন-ব্যয় নেই)। দায়িত্ব: বাংলাদেশ ব্যাংক। খাদ্য-সার-জ্বালানি-ওষুধ শীর্ষে, ভোগ্যপণ্য নিচে, যাতে রেশনিং আগে থেকে অনুমেয়, শৃঙ্খলিত, ও রাজনৈতিকভাবে সহনীয়। সাফল্য-সংকেত: অগ্রাধিকার তালিকা প্রকাশিত ও কার্যকর।
রিটার্ন ১৫ থেকে ২৫ গুণ
প্যাকেজের এককালীন খরচ যোগ করলে দাঁড়ায়: ইউরিয়া মজুদ ২,১০০ কোটি, ডিএপি-পটাশ বাফার ৫৫০ থেকে ৬৭০ কোটি, টিসিবি ফরোয়ার্ড স্টক ২,৬৮০ কোটি। বাকি চারটি লাইন (এলএনজি চুক্তি, আইএমএফ স্ট্যান্ডবাই, শ্রম-সমঝোতা, এলসি তালিকা) নীতি-পদক্ষেপ, এদের এককালীন মূলধন-ব্যয় নেই; আর পঞ্চম লাইন (গ্যাস অগ্রাধিকার) উল্টো বার্ষিক সাশ্রয়। তিনটি মূলধন-লাইন যোগ করলে: ২,১০০ + ৫৫০ + ২,৬৮০ = ৫,৩৩০ কোটি (নিম্নসীমা), এবং ২,১০০ + ৬৭০ + ২,৬৮০ = ৫,৪৫০ কোটি (ঊর্ধ্বসীমা)। অর্থাৎ মোট প্রায় ৫,৩৩০ থেকে ৫,৪৫০ কোটি টাকা (১২২ টাকা/ডলার দরে ৪৩৭ থেকে ৪৪৭ মিলিয়ন ডলার)। ছোট সংখ্যা না।
কিন্তু পরিস্থিতি খ-এর শুধু একটা ঘটনার মোট প্রত্যক্ষ খরচ ৮০,০০০ থেকে ১,৩০,০০০ কোটি টাকা। ভাগ করলে: সর্বনিম্ন রিটার্ন ৮০,০০০ ÷ ৫,৪৫০ ≈ ১৫ গুণ, সর্বোচ্চ রিটার্ন ১,৩০,০০০ ÷ ৫,৩৩০ ≈ ২৪ গুণ। অর্থাৎ প্রস্তুতির রিটার্ন প্রায় ১৫ থেকে ২৫ গুণ। এই হিসাব বাজেট অনুমোদন কমিটির সামনে রাখা যেতে পারত। রাখা হয়নি।
এর বিপরীতে সবচেয়ে শক্ত যুক্তি: যদি হরমুজ কয়েক সপ্তাহেই খোলে (পরিস্থিতি ক), তাহলে ৫,৪৫০ কোটি টাকার মজুদ একটি অতিরিক্ত খরচ যা কাজে লাগে না। এই যুক্তি সত্য, কিন্তু অসম্পূর্ণ: ইউরিয়া, ডিএপি, ও টিসিবির খাদ্যশস্য নষ্ট হয় না, পরের মৌসুমে ব্যবহৃত হয়; ক্ষতি শুধু কয়েক মাসের ধারণ-খরচ ও সুদ, যা সর্বোচ্চ কয়েকশ কোটি টাকা। অর্থাৎ ভুল-অ্যালার্মের দাম কম, আর শক সত্যি হলে রিটার্ন বিশাল। সিদ্ধান্ত পাল্টাবে কেবল তখন, যদি হরমুজ-শকের সম্ভাবনা কার্যত শূন্য ধরা হয়, যা ৪ মার্চ ২০২৬-এর পর ধরা কঠিন।
হরমুজ-ঝুঁকিকে আমরা যে শুধু-তেলের ঝুঁকি ভাবছি, সেই ভুলটাই আসল খরচ। শুধু তেল না, ইউরিয়া না, এলএনজি না; ভোজ্যতেল, পোশাক রপ্তানির মার্জিন, আর সবচেয়ে বড়, উপসাগরের ৪০ থেকে ৫০ লাখ শ্রমিকের বেতন। আর ইউরিয়ার তালা ফেব্রুয়ারি-মার্চে। প্রতিটি বছরে।
কিশোরগঞ্জের রহমত আলীর হাওরের ক্ষেতে যে ইউরিয়ার বস্তা পড়ছে, তার নিচে একটি পুরো জিওপলিটিকস। সেই জিওপলিটিকস বাংলাদেশের সরকারি বাজেটে দেখা যায় না, কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিটি ভাতের প্লেটে দেখা যাবে। পরের জানালা ফেব্রুয়ারি ২০২৭। প্রস্তুতির জানালা মে ২০২৬।
দুটোর মাঝখানে আট লাইনের একটা প্যাকেজ।
এই লেখার পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি বিশ্লেষণ (The Hormuz Bill) তথ্যসূত্রসহ বিস্তারিত পরিস্থিতি ও আর্থিক হিসাব দেয়।
লেখক: নীতিগবেষক, বিডিপলিসিল্যাব।
তথ্যসূত্র
- হরমুজ বন্ধ (৪ মার্চ ২০২৬): Israel/US-Iran conflict 2026: Reopening the Strait of Hormuz, হাউস অব কমন্স লাইব্রেরি; Iran shuts Hormuz strait, আল জাজিরা, ২০২৬: ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান, ৪ মার্চ ইরানের হরমুজ বন্ধ ঘোষণা, ৫ মার্চ থেকে পিঅ্যান্ডআই বীমা বাতিল, ট্যাংকার চলাচল কার্যত শূন্য।
- হরমুজের বৈশ্বিক অংশ ও প্রস্থ: Amid regional conflict, the Strait of Hormuz remains critical oil chokepoint, মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন: বিশ্বের সমুদ্রবাহিত তেলের বড় অংশ ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ দিয়ে; সরু অংশ ২১ নটিক্যাল মাইল।
- কাতার এলএনজি ফোর্স মাজিউর: Qatar LNG Shutdown Removes 5.8Mt Supply, কেপলার, ২০২৬: রাস লাফানে ফোর্স মাজিউর, কাতারের রপ্তানি ক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য বন্ধ।
- রেমিটেন্স FY২০২৪-২৫: Remittance up by $6.4b in FY25, দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ ব্যাংক), ২০২৫: মোট ৩০.৩ বিলিয়ন ডলার, প্রথমবার ৩০ বিলিয়ন পার, ২৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধি।
- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (৫ মে ২০২৬): Reserves cross $29b under IMF method, দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ ব্যাংক), ২০২৬: গ্রস প্রায় ৩৫.৩ বিলিয়ন ডলার, আইএমএফ-পদ্ধতিতে প্রায় ৩০.৬ বিলিয়ন।
- ইউরিয়া চাহিদা-উৎপাদন ও ঘোড়াশাল-পলাশ: Bangladesh seeks alternatives as Mideast war disrupts fertiliser imports, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২০২৬; Ghorashal-Palash urea plant to save Tk7,000cr, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: চাহিদা ২৬ লাখ টন, দেশীয় উৎপাদন প্রায় ১০ লাখ টন, ঘোড়াশাল-পলাশ ৯.২৪ লাখ টন যোগ করার কথা।
- গ্যাস-রেশনিংয়ে ইউরিয়া কারখানা বন্ধ: Gas rationing shuts five urea factories, বাংলামিরর, মার্চ ২০২৬।
- পোশাক রপ্তানি FY২০২৪-২৫: RMG exports notches 8.84% growth in FY25, বিএসএস (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো), ২০২৫: ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার, মোট রপ্তানির প্রায় ৮৪ শতাংশ।
- মধ্যপ্রাচ্য জ্বালানি-নির্ভরতা: How dependent is Bangladesh on Middle East oil-gas, দ্য ডেইলি স্টার, ২০২৬: FY২০২৫-২৬-এর প্রথম আট মাসে ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, ৬৫ শতাংশ এলএনজি, ৫১ শতাংশ এলপিজি মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
- বিকল্প সার সংগ্রহ: Bangladesh races to secure fertiliser amid Hormuz uncertainty, দ্য ডেইলি স্টার, ২০২৬: বিসিআইসি ইউরিয়া দরপত্র বাতিল; মিশর, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া থেকে জরুরি সংগ্রহের চেষ্টা।
- বৈশ্বিক সার সরবরাহ ঝুঁকি: FAO chief economist warns of severe global food security risks, এফএও, ২০২৬: সংকট অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক সারের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি থাকবে।