সারসংক্ষেপ। ২০২৪ সালের শেষে বাংলাদেশে UNHCR-নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০,০৫,৫২০-এ পৌঁছেছে, যা ইতিহাসের প্রথম সাত-অংকের নথিভুক্ত সংখ্যা। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের দুটি প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা একজনকেও সরাতে পারেনি। আরাকান আর্মি এখন রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ২০২৪ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত। WFP ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে মাথাপিছু রেশন ১২.৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলারে নামিয়েছে, যা প্রতিক্রিয়ার পুরো ইতিহাসে সর্বনিম্ন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শপথ নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের BNP সরকার প্রত্যাবাসনের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ৮ লাখ ২৯ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক তথ্য ভাগ করেছে। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সংসদে স্বীকার করেছেন, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে এই মুহূর্তে প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়। এই লেখাটি সেই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচটি প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা বলে যা নতুন আইন ছাড়াই নেওয়া যায়।
কুতুপালংয়ের ক্যাম্প-৪-এর একটা ছোট স্কুলঘরে নয় বছরের একটি ছেলে মিয়ানমারের ভাষায় ক্লাস করছে। তার জন্ম এই ক্যাম্পেই, ২০১৭ সালের শেষ দিকে। তার কোনো বাংলাদেশি জন্মসনদ নেই। তার মা-বাবা যে গ্রাম থেকে এসেছিলেন, রাখাইন রাজ্যের বুথিদং, সেই গ্রাম এখন আর নেই। যে সরকার তাঁদের বের করে দিয়েছিল, তাঁরা এখন রাখাইনে কোনো কর্তৃত্ব রাখে না। যে সশস্ত্র গোষ্ঠী এখন রাখাইন নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা ২০২৪ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত।
এই ছেলেটি আঠারো হবে ২০৩৫ সালে। তার সামনে তখন কোনো বৈধ কর্মসংস্থান নেই, কোনো উচ্চশিক্ষার পথ নেই, ক্যাম্প থেকে বের হওয়ার কোনো নথিভিত্তিক ব্যবস্থা নেই, এবং প্রত্যাবাসনের কোনো বাস্তব সম্ভাবনাও নেই। তার একটাই পরিচয়পত্র UNHCR-এর দেওয়া একটি কার্ড, যা বাংলাদেশের কোনো দপ্তরে কাজে আসে না।
এই ছেলেটি একা না। ২০১৭-এর পর কুতুপালং-বালুখালী ক্যাম্প গুচ্ছে জন্ম নেওয়া শিশুদের সংখ্যা এখন কয়েক লাখ।
এই লেখাটি তাঁদের প্রজন্ম, এবং বাংলাদেশের নীতি যে অস্বীকার এই প্রজন্মকে দীর্ঘ এক দশক ধরে কাঠামোর বাইরে রেখেছে, সেই অস্বীকারের হিসাব নিয়ে।
একটা শব্দ যা ভুল
২০২৪ সালের শেষে বিশ্ব ব্যাংকের নথিতে বাংলাদেশে নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা প্রথমবার দশ লাখ অতিক্রম করেছে। UNHCR-এর হিসাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ২,০৪,২৭৮ পরিবারে ১০,০৫,৫২০ জন। সরকারি ভাষ্যে আমরা এখনো বলি "১২ লাখ রোহিঙ্গা"। এই সংখ্যাটিও সম্ভবত সঠিক, কারণ এতে অন্তর্ভুক্ত আছে ২০১৭-পূর্ব অনিবন্ধিত উদ্বাস্তু এবং ২০২৪ থেকে যাঁরা মংডু ও বুথিদং থেকে নতুন করে এসেছেন। কিন্তু জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার আওতায় বাংলাদেশে আশ্রয়প্রাপ্ত মানুষের নথিভুক্ত সংখ্যা যেদিন সাত অংকে পৌঁছেছে, সেই দিনটি বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রণালয় চিহ্নিত করেনি, কোনো নীতিপত্রে উঠে আসেনি, কোনো বাজেট ভাষণে আলোচনা হয়নি।
এটা চিহ্নিত করা প্রয়োজন ছিল। চিহ্নিত না করার নিজস্ব মূল্য আছে।
ভুলটা এখন একটি শব্দে। শব্দটি হলো "অস্থায়ী"। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি নীতি, প্রতিটি প্রশাসনিক আদেশ, প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি একটি অনুমানের ওপর গড়া: রোহিঙ্গারা একসময় ফিরে যাবেন। ১৯৯২ সালের পূর্ববর্তী দল ফিরেছিল, তাই এই অনুমান অযৌক্তিক ছিল না।
কিন্তু ২০১৮ সালের নভেম্বর ও ২০১৯ সালের আগস্ট, দুটি প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা একজনকেও সরাতে পারেনি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ শুরুর পর, এবং ২০২৪ সালে আরাকান আর্মির রাখাইন রাজ্যের কার্যত নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর, প্রত্যাবাসনের কোনো অর্থপূর্ণ পথ আর অবশিষ্ট নেই। যে গ্রাম থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়েছিলেন, সেই গ্রাম ধ্বংস হয়েছে। যে সরকার তাদের বের করে দিয়েছিল, সেই সরকার এখন রাখাইনে কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে না। যে সশস্ত্র গোষ্ঠী এখন রাখাইন নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা ২০২৪ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত।
এই বাস্তবতা স্বীকার করতে আমাদের নয় বছর লেগেছে। স্বীকার এখনো সম্পূর্ণ নয়।
রেশন: ছয় ডলার কী কেনে
এর মধ্যেই খাবারের রেশন ক্রমাগত কমে আসছে।
২০২৩ সালের ১ মার্চ WFP জনপ্রতি মাসিক রেশন ১২ ডলার থেকে ১০ ডলারে নামিয়ে আনে। ১ জুন ২০২৩ আবার নামিয়ে আনে ৮ ডলারে। সেপ্টেম্বরে কুতুপালংয়ের পুষ্টি জরিপে পাঁচ বছরের কম শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার (GAM) পৌঁছায় ১৫.১ শতাংশে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার "জরুরি" থ্রেশহোল্ডের ওপরে, যা ২০১৭ সালের জরুরি পর্যায়ের পর প্রথম। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রেশন ১২.৫০ ডলারে পুনরুদ্ধার হয়। আর তারপর, ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে এক ধাপে রেশন কমিয়ে দেওয়া হয় ৬ ডলারে। মাথাপিছু সাড়ে ছয় ডলারের কর্তন, প্রায় দশ লাখ মানুষের জন্য, এক বছরে প্রায় সাত কোটি আশি লাখ ডলারের খাদ্যক্রয়ক্ষমতা মুছে ফেলেছে এক কলমের আঁচড়ে। মে ২০২৬ পর্যন্ত এই ৬ ডলার অপরিবর্তিত আছে, যা পুরো প্রতিক্রিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সবচেয়ে নিম্ন হার।
৬ ডলার মাসে কী কেনে? কক্সবাজারের পাইকারি বাজারে প্রায় পাঁচ কেজি চাল আর সামান্য ডাল-তেল মেলে। কোনো শাকসবজি না, কোনো প্রাণিজ আমিষ না, কোনো অপুষ্টি প্রতিরোধী পরিপূরক না। জাতিসংঘের IPC শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী এই মাত্রায় টিকে থাকা জনসংখ্যা "সংকট" বা "জরুরি" পর্যায়ে পড়ে। ২০২৩ সালের ৮ ডলার রেশনে যে অপুষ্টি জরিপ ১৫.১ শতাংশ দেখিয়েছিল, ২০২৬ সালের জরিপে ৬ ডলার রেশনে কী দেখাবে তা প্রশ্নাতীত: দিকটা পরিবর্তন হবে না, মাত্রা বাড়বে।
পরিকল্পনার কারণে নয়, ক্ষয়ের কারণে এটা ঘটছে। ২০১৮ সালে যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা বা JRP তহবিলের ৬৮ শতাংশ পেয়েছিল। ২০২৩ সালে ৫১ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৬৪.৩ শতাংশ পুনরুদ্ধার হয়েছে দেখলে মনে হতে পারে অবস্থা স্থিতিশীল, কিন্তু সেই বছরই রাখাইন থেকে আরও এক লাখ বিশ হাজার নতুন আগমনের প্রয়োজন মূল আবেদনের বাইরে যোগ হয়েছে। ২০২৫ থেকে JRP দ্বিবার্ষিক হয়ে গেছে: জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৯৩৪.৫ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ৮৪ মিলিয়ন ডলার সরাসরি নতুন আগমনের জন্য বরাদ্দ।
ইউক্রেন, গাজা, সুদান, প্রতিটি নতুন সংকট সেই দাতা পুলকেই টেনে নিয়েছে যেটি একসময় কক্সবাজার পরিচালনা করত। এটি বাংলাদেশের প্রতি অসন্তুষ্টি না, এটি একটি কাঠামোগত পরিবর্তন। এক দশকের জন্য একটি স্থায়ী জনগোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখার জন্য মানবিক অর্থায়ন ব্যবস্থা কখনো নকশা করা হয়নি।
যে দাম স্থানীয় বাজার বহন করে
স্থানীয় মূল্যও জমে আছে।
উখিয়া আর টেকনাফে দিনমজুরির মজুরি জেলার বাকি অংশ থেকে ৫ থেকে ৮ শতাংশ কম, ২০২২ সালের বিশ্ব ব্যাংকের কক্সবাজার প্যানেল সার্ভে অনুযায়ী। বাড়ি ভাড়া উল্টো ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি, কারণ এনজিও কর্মীরা সেখানে আছেন। ২০১৭ থেকে ২০১৮-এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর প্রাকৃতিক বনভূমি ক্যাম্প নির্মাণ ও জ্বালানি কাঠের জন্য হারিয়ে গেছে; IOM-এর LPG সরবরাহে শরণার্থী পরিবারপ্রতি জ্বালানি কাঠের চাহিদা প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে (UNHCR/IOM, "Greening of Cox's Bazar"), কিন্তু হারানো বন আর ফেরেনি।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর নামছে। বাকখালী নদী থেকে পাইপলাইনে পানি আনার ৯ কোটি ডলারের প্রকল্প অর্ধেক অর্থায়িত। ভাসান চরে যে অবকাঠামো এক লাখ মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে (প্রায় ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ), সেখানে ছয় বছরে স্থানান্তরিত হয়েছে মাত্র পঁয়ত্রিশ হাজার, ক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশ।
এই সব মূল্য জাতীয় বাজেটের কোনো লাইনে দেখা যায় না, কিন্তু কেউ কেউ পরিশোধ করছে। উখিয়ার দিনমজুর কমে যাওয়া মজুরি দিচ্ছে। কক্সবাজারের বাড়িওয়ালা কম পাচ্ছেন বটে, কিন্তু স্কুলশিক্ষক তাঁর ভাড়ার বেশি অংশ দিচ্ছেন। বনভূমির ক্ষতি জলবায়ু-হিসাবে আগামী দশকেও পরিশোধ হবে।
নথিবিহীন প্রজন্ম
সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটা শিশুদের নিয়ে। ক্যাম্পে ২০১৭ সালের পর জন্ম নেওয়া শিশুদের কোনো বাংলাদেশি নাগরিক নিবন্ধন নেই। তারা UNHCR-এর সুরক্ষা রেকর্ডে আছে, কিন্তু কোনো রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র নেই, কোনো জন্মসনদ নেই।
২০২৪ সালে যে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীরা মিয়ানমারের পাঠ্যসূচিতে এসএসসি-সমতুল্য পরীক্ষায় বসেছে, তাদের সনদ বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি দেবে না। ২০২৬ সালে তারা আঠারো হবে। তাদের সামনে কোনো বৈধ কর্মসংস্থান নেই, কোনো উচ্চশিক্ষার পথ নেই, ক্যাম্প থেকে বের হওয়ার কোনো নথিভিত্তিক ব্যবস্থা নেই। UNHCR-এর ২০২৪ সালের বিবৃতি অনুযায়ী রোহিঙ্গারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রহীন জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যার একটি ক্রমবর্ধমান অংশ এখন জন্মসূত্রেই রাষ্ট্রহীন।
ক্যাম্প-৪-এর সেই নয় বছরের ছেলেটি কোন দেশের নাগরিক? উত্তর: কোনোটার না। সে মিয়ানমারে নেই, তার সরকার তাকে স্বীকার করে না, এবং বাংলাদেশের কাঠামোয় তার কোনো জায়গা নেই। সে UNHCR-এর একটি কোডে আছে। সেই কোড তার পরিচয়, কিন্তু পরিচয়পত্র না।
এই কাঠামোগত শূন্যতার দাম তাদের জীবনের প্রতিটি বছরে যোগ হচ্ছে।
কোনো প্রস্তুত টেমপ্লেট নেই
বাংলাদেশ ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী না, ১৯৬৭ প্রটোকলেও না। এর অর্থ আমাদের কোনো আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু এর অর্থ এও যে আমাদের কাছে কোনো প্রস্তুত আন্তর্জাতিক টেমপ্লেট নেই যা অনুসরণ করা যায়।
আমরা একটা ফাঁকা পৃষ্ঠা থেকে নীতি তৈরি করছি, এবং নয় বছর ধরে আমাদের নীতির মূল ভিত্তি একটাই: প্রত্যাবাসন আসছে, তাই বর্তমান কাঠামো অপরিবর্তিত রাখো।
প্রশ্নটা পুনর্গঠন প্রয়োজন। প্রত্যাবাসন এই দশকে আসছে না, সম্ভবত পরবর্তী দশকেও নয়। তাহলে এই দশকটাকে আমরা কীভাবে চালাব? "অপেক্ষা করো" একটি অবস্থান, কিন্তু সেটা একটা নীতি না। সেটা নীতি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তেরও মূল্য আছে, এবং সেই মূল্য রোহিঙ্গা, উখিয়া-টেকনাফের বাঙালি প্রতিবেশী, এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি কোষাগার, এই তিনটাই বহন করছে।
পাঁচটি পদক্ষেপ যা অন্য দেশে কাজ করেছে
নয় বছর পরে যা প্রয়োজন তা কোনো নতুন আবিষ্কার না। অন্য দেশ এই সমস্যার বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন সমাধান চেষ্টা করেছে।
উগান্ডা কঙ্গো ও দক্ষিণ সুদানের শরণার্থীদের কাজের অধিকার ও চলাচলের স্বাধীনতা দিয়েছে; বিশ্ব ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জমি ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ পাওয়া শরণার্থীদের মাথাপিছু মৌলিক চাহিদা সহায়তার খরচ গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তানজানিয়া দীর্ঘমেয়াদি বুরুন্ডিয়ানদের ২০১০ সালে নাগরিকত্ব দিয়েছে। তুরস্ক সিরিয়ান শরণার্থীদের "অস্থায়ী সুরক্ষা" মর্যাদা দিয়েছে যা কাজের অনুমতি ও স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবহারের অধিকার দেয়। জর্ডান EU-এর সাথে ২০১৬ সালের সমঝোতায় সিরিয়ান শরণার্থীদের জন্য দুই লাখ কাজের পারমিট চালু করেছে, যা ক্যাম্প থেকে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে রূপান্তরের পথ খুলেছে।
প্রতিটি মডেল ভিন্ন, কোনোটিই বাংলাদেশে হুবহু বসানো যায় না। কিন্তু প্রতিটিই প্রমাণ করে যে আটক রাখা ও নাগরিকত্ব দেওয়ার মাঝে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম পথ আছে।
বাংলাদেশের জন্য পাঁচটি পদক্ষেপ এই দশকের ভেতর সম্ভব, এবং প্রতিটি ছাড়াই বর্তমান অবস্থা টিকে থাকা যাবে না।
প্রথম, কাজের ক্রমিক অধিকার। এমন কাজের শ্রেণী যেখানে বাংলাদেশি শ্রমবাজারের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতা নেই: ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম, অনুমোদিত অঞ্চলে কৃষিকাজ, বাংলাদেশের প্রমাণিত শ্রমঘাটতির খাতে দক্ষ কাজ। এমনকি আংশিক কাজের অধিকার মাথাপিছু খরচ কমাবে এবং উখিয়া-টেকনাফের অনানুষ্ঠানিক মজুরি চাপ কমাবে কারণ ইতিমধ্যে যে অনানুষ্ঠানিক শ্রম চলছে সেটা আনুষ্ঠানিক হবে। এটা একটা আইন পরিবর্তন না, একটা প্রশাসনিক আদেশ।
দ্বিতীয়, শিক্ষাগত সনদের স্বীকৃতি। ক্যাম্পে যে মিয়ানমার পাঠ্যসূচি ২০২০ থেকে চালু আছে, তার এসএসসি-সমতুল্য সনদকে বাংলাদেশের ভেতর প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে স্বীকৃতি দাও। এটা বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ডের সমকক্ষতা না, এটা শুধু এই সনদকে একটা পরিচিত মান হিসাবে স্বীকার করা যা ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ ও সীমিত উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার দিতে পারে। ২০২৪ সালের কোহর্ট ২০২৬ সালে আঠারো হবে। তাদের প্রশ্ন এড়িয়ে আমরা কোথায় যাব?
তৃতীয়, রাষ্ট্রহীন নিবন্ধন ব্যবস্থা। জাতীয় পরিচয়পত্র না, কিন্তু একটি বাংলাদেশি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যা ক্যাম্পের জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ নথিভুক্ত করবে এবং যে নথি প্রশাসনিক মূল্য রাখবে। এটি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনে কোনো পরিবর্তন আনে না, এটি ভবিষ্যতের কোনো সিদ্ধান্তকে বাঁধে না। এটি শুধু UNHCR-এর নথির পরিবর্তে বাংলাদেশি নথি সরবরাহ করে।
চতুর্থ, ক্রমিক চলাচল কাঠামো। শুরু হোক কক্সবাজার জেলার ভেতর কাজ ও শিক্ষার জন্য নিবন্ধিত যাতায়াত দিয়ে। ২০১৭-১৮-এ চলাচল সীমাবদ্ধতার যে নিরাপত্তা যুক্তি ছিল, সেটা সময়ের সাথে দুর্বল হয়েছে, কিন্তু উন্নয়নগত মূল্য বেড়েছে। বর্তমান বাইনারি, পূর্ণ সীমাবদ্ধতা বা কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, এটা একটি নথিভিত্তিক ব্যবস্থায় প্রতিস্থাপিত হতে পারে।
পঞ্চম, ভাসান চরের যৌক্তিকীকরণ। স্বীকার করো যে এক লাখের লক্ষ্য পূরণ হবে না। যা স্থানান্তরিত আছেন তাদের কক্সবাজারের অধিকার কাঠামোর সমান অধিকার দাও। অব্যবহৃত সম্পদ অন্য উদ্দেশ্যে রূপান্তর করো। বর্তমান অস্পষ্টতা, যেখানে ভাসান চর সফল স্থানান্তর কেন্দ্রও না, বন্ধ প্রকল্পও না, কারো উপকারে আসছে না।
এই পাঁচটির বাইরেও একটি ষষ্ঠ পদক্ষেপ আছে, যা পরবর্তী সরকারের জন্য জরুরি: আন্তর্জাতিক অর্থায়নের রূপান্তর। UNHCR-এর বার্ষিক আবেদনের পরিবর্তে বিশ্ব ব্যাংকের IDA-এর শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা সম্প্রদায় উপ-জানালা, এডিবি, EU, এবং OIC সদস্যদের সম্মিলিত অর্থায়নে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অর্থায়নে স্থানান্তর। এই উইন্ডোগুলো কাজে লাগাতে কাজের অধিকার ও নথি কাঠামো প্রায়শই পূর্বশর্ত। অর্থাৎ উপরের পাঁচটি পদক্ষেপ ষষ্ঠটির জন্যও জরুরি।
প্রতিটি পদক্ষেপ অন্য দেশে পরীক্ষিত। প্রতিটিই বাংলাদেশে রাজনৈতিক ব্যয়সাপেক্ষ, কারণ স্থানীয় ভোটারের কাছে এর অর্থনৈতিক যুক্তি স্পষ্ট না, এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পছন্দ "প্রত্যাবাসনের অপেক্ষা" অবস্থানের প্রতি। তবে বিকল্প, যা বর্তমান কাঠামোকে ২০৩০ সালের পরও টেনে নিয়ে যাওয়া, প্রতিটি হিসাবে আরও বেশি ব্যয়সাপেক্ষ, যদিও সেগুলো বাজেটে দেখা যায় না।
যে ভুল ব্যাখ্যা এই কাঠামোকে আটকে রেখেছে
পাঠক যদি ভাবেন এই প্রস্তাব মানে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ী করা, প্রস্তাবটি ভুলভাবে পড়া হয়েছে।
প্রস্তাবটি হলো, বাস্তবতা যা ইতিমধ্যেই স্থায়ী, তাকে নীতিতে স্বীকার করা। নথি দেওয়া মানে নাগরিকত্ব না। কাজের অনুমতি মানে সমাকলন না। শিক্ষাগত স্বীকৃতি মানে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশ না।
এই পার্থক্যগুলো আন্তর্জাতিক আইনে স্পষ্ট, এই পার্থক্যগুলো অন্য দেশে কাজ করেছে। প্রত্যাবাসন যদি কখনও সম্ভব হয়, এই কাঠামো সেটাকে বাধা দেয় না, বরং প্রত্যাবাসিত জনগোষ্ঠীকে স্বনির্ভরতার ভিত্তি দেয়। প্রত্যাবাসন না হলে, এই কাঠামো একটি গণহত্যা থেকে পালানো জনসংখ্যাকে দশকে দশকে অপুষ্টি ও অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত হতে দেওয়া বিকল্পের চেয়ে কম খারাপ।
পুনর্বিবেচনার একটাই বাধা, যেটা সবচেয়ে বড়: রাজনৈতিক ভাষা। গত নয় বছরে রোহিঙ্গা আলোচনার পুরো শব্দভান্ডার অস্থায়িত্বের চারপাশে গড়া। "Forcibly Displaced Myanmar Nationals" শব্দটাই এই অস্থায়িত্বের ভাষাগত আশ্রয়। এই শব্দ পরিবর্তন হলে, পুরো নীতিকাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান উন্মুক্ত হয়ে যাবে। সেই আহ্বানের রাজনৈতিক ব্যয় বহন করা সহজ না। কিন্তু সেটাই এই দশকের নীতি প্রশ্ন।
সংকীর্ণ জানালা
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে BNP সরকার ক্ষমতায় এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসন সাফল্যের উল্লেখ করে বলেছেন, সরকার অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। একই সাথে তিনি স্বীকার করেছেন, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে এই মুহূর্তে প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়।
এই বাস্তবতা একটি দ্বৈত দায়িত্ব তৈরি করে: প্রত্যাবাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি, বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসরত দশ লাখ মানুষের জন্য একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা। এই পাঁচটি পদক্ষেপের কোনোটিই আইন পরিবর্তন দাবি করে না। প্রশাসনিক আদেশ, NGO Affairs Bureau-এর নীতি সংশোধন, এবং দাতাদের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ যথেষ্ট।
২০২৬ সালের মধ্যে যদি এই ভিত্তি স্থাপন না হয়, সম্ভাব্যতম পথটি হলো বর্তমান কাঠামোর অনির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা: রেশন কখনো ৬, কখনো ১০ ডলার; উখিয়ার মজুরি চাপ অব্যাহত; এবং একটি প্রজন্মের রাষ্ট্রহীন শিশু কুড়ি বছর বয়সে পৌঁছাবে নথি, শিক্ষা, কাজ, কোনোটিরই অধিকার ছাড়া।
এই পথের মূল্য ২০৩০ সালেও আমরা পরিশোধ করব, ২০৪০ সালেও।
কুতুপালংয়ের ক্যাম্প-৪-এর সেই ছেলেটি ২০৩৫ সালে আঠারো হবে। সে বাংলাদেশে থাকবে, কারণ যাওয়ার জায়গা নেই। আমাদের প্রশ্ন না, সে যাবে কিনা। আমাদের প্রশ্ন, সে কোন কাঠামোর ভেতরে থাকবে। সেই কাঠামোর প্রথম স্বাক্ষরটি এই দশকেই দেওয়া যায়।
বিস্তৃত নীতিগত হিসাবনিকাশ, প্রতিটি সংখ্যার উৎস, এবং পাঁচটি পদক্ষেপের প্রতিটির বিস্তারিত যুক্তি ইংরেজি নীতিপত্র "After Repatriation Died" থেকে পাওয়া যাবে।
লেখক: নীতিগবেষক, বিডিপলিসিল্যাব।
তথ্যসূত্র
- UNHCR বাংলাদেশ অপারেশনাল ডেটা পোর্টাল (শরণার্থী স্টক, সুরক্ষা তথ্য): https://data.unhcr.org/en/country/bgd
- বিশ্ব ব্যাংক WDI SM.POP.RHCR.EA (দেশ-অনুযায়ী শরণার্থী সংখ্যা): https://data.worldbank.org/indicator/SM.POP.RHCR.EA?locations=BD
- WFP বাংলাদেশ রেশন কর্তন বিবৃতি (এপ্রিল ২০২৫): https://www.wfp.org/countries/bangladesh
- UNHCR/IOM যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা ২০২৫-২০২৬: https://reporting.unhcr.org/operational/operations/bangladesh
- বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সংসদীয় বিবৃতি (২০২৬): https://www.bssnews.net/js-session/382270
- RRRC (শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার) বাংলাদেশ: https://rrrc.org.bd
- IOM ভাসান চর পর্যবেক্ষণ আপডেট (২০২৪): https://www.iom.int/countries/bangladesh
- বিশ্ব ব্যাংক কক্সবাজার প্যানেল সার্ভে ২০১৯ ও ২০২২: https://microdata.worldbank.org/index.php/catalog/3805